শরিফুল ইসলাম দ্বিতীয় টেস্টে ডাক পেলেন

বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশ দলে ডাক পেয়েছেন। তাই দলের সাথে যোগ দিতে আজ রাতেই ক্যারিবিয়ান দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি। বিসিবির মিডিয়া বিভাগের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাটিংয়ের সময় হাতে ব্যথা পেয়েছিলেন শরিফুল। ফলে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি।

ইনজুরির কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট দলে ছিলেন না শরিফুল। তবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে ছিলেন তিনি। কিন্তু ইনজুরি থেকে সুস্থ হয়ে উঠে অনুশীলন করেছেন শরিফুল। অনুশীলনে ভালো অনুভব করায় দ্বিতীয় টেস্টে শরিফুলের খেলার ব্যাপারে ছাড়পত্র দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগ।

এরপরই দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলে সুযোগ পেলেন শরিফুল।

২০২১ সালের এপ্রিলে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অভিষেক হয়েছিলো শরিফুলের। এখন পর্যন্ত ৪ টেস্টে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়াও ১০ ওয়ানডেতে ১৩ ও ১৯ টি-টোয়েন্টিতে ২৫ উইকেট আছে তার।

আগামী ২৪ জুন থেকে সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। অ্যান্টিগায় সিরিজের প্রথম টেস্টে ৭ উইকেটে হার মানে বাংলাদেশ। সিরিজে হার এড়াতে দ্বিতীয় টেস্টে জয় ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা নেই টাইগারদের। বাসস

‘রোনালদো দলের জন্য বাজে উদাহরণ তৈরি করছেন’

টানা ছয় ম্যাচে গোল না পাওয়ায় এমনিতেই বেশ চাপে আছেন ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এর সঙ্গে এবার যোগ হলো দলের সাবেক খেলোয়াড় পল ইন্সের কঠোর সমালোচনা। ‘দলের জন্য বাজে উদাহরণ তৈরি করছেন রোনালদো’- এমন অভিযোগ ইন্সের।

চলতি মৌসুমের শুরুতে ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাস ছেড়ে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পাড়ি জমিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা রোনালদো। প্রায় এক যুগের বেশি সময় পর পুরোনো ক্লাবে ফিরে উষ্ণ অভ্যর্থনাই পেয়েছিলেন তিনি। সবাই তাকে বরণ করে নিয়েছিলো সাদরে। যার প্রতিদানও তিনি দিচ্ছিলেন একের পর এক দারুণ পারফরম্যান্সে।

কিন্তু ২০২২ সালের শুরু থেকেই যেনো নিজেকে খুঁজে ফিরছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এ তারকা ফুটবলার। সবশেষ ছয় ম্যাচে গোল পাননি একটিও। এছাড়া নিজের রাগ-হতাশাও দমিয়ে রাখতে পারছেন না রোনালদো। আর এটিকেই বাজে উদাহরণ বলছেন ইন্সে।

জেন্টিং ক্যাসিনোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্সে বলেছেন, ‘এখন সে ১৯ বছরের রোনালদো নয় যে প্রথমবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এসেছিল। সে এখন ৩৭ বছরের রোনালদো। যখন মানুষ বলে সে ক্লাব ও তরুণদের জন্য ভালো হবে, তখন সবকিছুই ভাবতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু সে টানেল দিয়ে ফেরার পথে নিজের সরঞ্জাম ছুড়ে মারছে। আমার মতে, এগুলো বাজে উদাহরণ। যখন ক্যারিয়ারের শেষ দিকে থাকা কেউ বার্নলির বিপক্ষে শুরু থেকে খেলতে পারে না, তখন বুঝতে হবে কিছু তো সমস্যা আছে। এখানে ভাবতে হবে দলের ব্যাপারে। কিন্তু এখন সব হয়ে গেছে রোনালদোর ব্যাপারে।’

/আরএ

আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপা সেনেগালের ঘরে

আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপা উঠলো সেনেগালের ঘরে। নিয়মিত সময়ে পেনাল্টি মিস করলেও শ্যুট আউটে আর সেনেগালকে হতাশ করেননি তারকা স্ট্রাইকার সাদিও মানে।

রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্দের ওলেম্বে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে গোলশূন্য ড্র থাকার পর মোহাম্মদ সালাহর মিশরকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মত আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে সেনেগাল। এ উপলক্ষে দেশটিতে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ম্যাচ হিস্ট্রি:

ম্যাচের ৭ মিনিটে মিশরীয় গোলরক্ষক আবু গাবাল সাদিও মানের পেনাল্টি রুখে দিয়ে সেনেগাল শিবিরকে হতাশায় ডোবায়। কিন্তু ম্যাচ শেষে সেই মানেই দেশের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। এবারের আফ্রিকান নেশন্স কাপে এনিয়ে টানা চতুর্থ ম্যাচে মিশর অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ নিয়ে গেল।

মিশরের হয়ে পঞ্চম পেনাল্টি শ্যুটটি নেবার কথা ছিল সালাহর। কিন্তু চতুর্থ শটে মোহাম্মদ আবদেলমোনেম বল পোস্টে লাগালে সেনেগাল জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।

এর আগে মোহানাদ লাশিনের দ্বিতীয় শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দিয়েছিলেন সেনেগালিজ গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি। লিভারপুল তারকা সালাহ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছেন তার ক্লাব সতীর্থ মানে পঞ্চম শটে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে দুইবার ফাইনালে পরাজিত সেনেগাল শেষ পর্যন্ত আফ্রিকান সর্বোচ্চ আসরে শিরোপার স্বাদ পেল। অন্যদিকে রেকর্ড অষ্টম শিরোপা অধরাই থেকে গেল মিশরীয়দের। যদিও সালাহ এখনো পর্যন্ত মহাদেশীয় এই শিরোপাটি হাতে তুলতে পারেননি।

ম্যাচ শেষে সেনেগালের কোচ আলিউ সিজে সম্প্রচার কেন্দ্র বিআইন স্পোর্টসকে বলেছেন, ‘এখানে এটাই প্রমাণ হয়েছে যে কেউ যদি কঠোর পরিশ্রম করে তবে দিন শেষে পুরস্কার আসবেই। মন থেকে তাকে চাইতে হবে। আমি খুব বেশী আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। কারণ ৬০ বছর ধরে সেনেগালের মানুষ এই শিরোপাটির জন্য অপেক্ষা করেছে।’

ফাইনালে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মিশরীয় গোলরক্ষক আবু গাবাল। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘আমরা সত্যিই খুব হতাশ। কিন্তু এটাই ফুটবল। এখানে কেউ জিতে, কেউ হারবে, এটাই স্বাভাবিক।’

গত ১১টি আসরের ফাইনালে মধ্যে পঞ্চম ম্যাচ হিসেবে গোলশূন্য ড্র থাকার পর পেনাল্টি শ্যুট আউটে ভাগ্য নির্ধারিত হলো। এর মধ্যে মিশর দুটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

এই টুর্নামেন্টেই আগের দুই ম্যাচে আইভরি কোস্ট ও ক্যামেরুনের সাথে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র থাকার পর পেনাল্টিতে জয়ী হয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল মিশর।

ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ক্যামেরুনের ৮৮ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি পল বিয়া। তার সাথে আরো ছিলেন ফিফা সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও কনফেডারেশন অব আফ্রিকার প্রধান প্যাট্রিস মোটসেপে ও ক্যামেরুন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক তারকা স্যামুয়েল ইতো।

ইতোকে আফ্রিকার সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ের সালাহ ও মানে জুটি সেই জনপ্রিয়তাকে ছাড়িয়ে যাবার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। ২০১৯ সালের ফাইনালে আলজেরিয়ার কাছে পরাজয়ের পর থেকেই সেনেগাল শিরোপা জয়ের নেশায় মরিয়া ছিল।

৭ মিনিটে এগিয়ে যাবার সুযোগ পেয়েছিল সেনেগাল। বক্সের ভিতর আকদেলমোনেম দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সারিও সিসকে ফাউল করে বসলে পেনাল্টি উপহার পায় সেনেগাল। কিন্তু মানের পোস্টের মাঝামাঝিতে করা শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন গাবাল।

৪৩ মিনিটে সালাহর শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মেন্ডি। সতীর্থের বাড়ানো পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে সালাহ শট নিলে তা রুখে দেন মেন্ডি। ৫২ মিনিটে মিসরকে আবারো রক্ষা করেন গোলরক্ষক আবু গাবাল।

মাঝ মাঠ থেকে গোছাল আক্রমণ থেকে ডান দিক থেকে সাদিও মানের নিচু ক্রস গোলমুখে সেনেগালের দুই ফুটবলার মিলেও আবু গাবালকে পরাস্ত করতে পারেনি। এরপর একে পর এক আক্রমণ করেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিলো না সেনেগাল।

নির্ধারিত নব্বই মিনিট গোলশূন্য থাকায় ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে আরো একবার দুর্দান্তভাবে মিশরকে বাঁচান আবু গাবাল। অফসাইড ফাঁদ ভেঙ্গে মিশরের দুই ডিফেন্ডারকে পিছনে ফেলে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন আহমাদু বাম্বা, কোনাকুনি ভাবে তার নেওয়া শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন আবু গাবাল।

এরপর আহমাদু বাম্বার লাফিয়ে উঠা হেড বা দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গাবাল। ১১৪ মিনিটে মিসরের ত্রাতা হয়ে আসেন সেই আবু গাবাল।

এবারো আহমাদু বাম্বার নেওয়া বুলেট গতির শট দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করে দেন এই গোলরক্ষক। অতিরিক্ত সময়েও খেলার ফলাফল সমতায় থাকায় ভাগ্য নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন হয় টাই ব্রেকারের।

যুব বিশ্বকাপ : সেরা একাদশে বাংলাদেশের রিপন

যুব বিশ্বকাপ সেরা একাদশে একমাত্র বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন পেসার রিপন মন্ডল। অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৪তম আসর শেষে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আসরের সেরা একাদশ ঘোষণা করে।

৬ ম্যাচে বল হাতে ১৪ উইকেট শিকার করেন ডান-হাতি মিডিয়াম পেসার রিপন। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় চতুর্থস্থানে আছেন তিনি। আসরে রিপনের সেরা বোলিং ফিগার ছিল গ্রুপ পর্বে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে ২৪ রানে ৪ উইকেট। ঐ ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন তিনি।

যুব বিশ্বকাপ সেরা একাদশের অধিনায়ক চ্যাম্পিয়ন ভারতের ইয়াস ঢুল। ঢুলের সঙ্গে আরও দু’জনসহ ভারতের সর্বোচ্চ তিনজন খেলোয়াড় সেরা একাদশে সুযোগ পান। একাদশে দু’জন করে আছেন ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান থেকে। অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা থেকে একজন করে খেলোয়াড় নেয়া হয়েছে। দ্বাদশ ক্রিকেটার হিসেবে রাখা হয়েছে আফগানিস্তানের নূর আহমেদকে।

যুব বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে বল হাতে ১৪ উইকেট শিকার করেন ডান-হাতি মিডিয়াম পেসার রিপন।

এবারের আসরের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। আর গতবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অষ্টম স্থানে থেকে আসর শেষ করেছে।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেরা একাদশ : হাসিবুল্লাহ খান (পাকিস্তান), টিগু উইলি (অস্ট্রেলিয়া), ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (দক্ষিণ আফ্রিকা), ইয়াস ঢুল (ভারত), টম প্রেস্ট (ইংল্যান্ড), দুনিথ বেলালাগে (শ্রীলংকা), রাজ বাওয়া (ভারত), রিপন মন্ডল (বাংলাদেশ), আওয়াইস আলী (পাকিস্তান) ও জস বয়ডেন (ইংল্যান্ড)। দ্বাদশ ক্রিকেটার- নূর আহমেদ (আফগানিস্তান)। বাসস।

পঞ্চমবারের মত যুব বিশ্বকাপ জয়ী ভারত

পঞ্চমবারের মত অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে উপমহাদেশের দল ভারত। গতরাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত ৪ উইকেটে হারায় ইংল্যান্ডকে।

এন্টিগায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় ইংল্যান্ড। কিন্তু ব্যাট হাতে নেমে ভারতের বোলিং তোপে স্কোরবোর্ডে ৬১ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারায় ইংলিশরা। ৯১ রানে সপ্তম উইকেট পতনের পর দলের পক্ষে বড় জুটি গড়েন জেমস রিউ ও জেমস সেলস।

অষ্টম উইকেটে ১১২ বলে ৯৩ রানের জুটি গড়েন দুই জেমস। ১১৬ বলে ১২টি চারে ৯৫ রানে রিউ ফিরলেও, ৬৫ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন সেলস। শেষ পর্যন্ত ৪৪ দশমিক ৫ ওভারে অলআউট হবার আগে ১৮৯ রানের সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ডের বড় স্কোর করতে দেননি ভারতের দুই পেসার রাজ বাওয়া ও রবি কুমার। বাওয়া ৩১ রানে ৫ ও রবি কুমার ৩৪ রানে ৪ উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৯০ রানের লক্ষ্যে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় ভারত। এরপর ৪৯ ও ৪৬ রানের ছোট দু’টি জুটিতে দারুণভাবে লড়াইয়ে টিকে থাকে ভারত। এই দুই জুটিতে বড় অবদান ছিলো শেখ রাশেদের। ৮৪ বলে ৬টি চারে ৫০ রান করেন তিনি।

তবে পঞ্চম উইকেটে বাওয়া-নিশান্ত সিঁদুর ৮৮ বলে ৬৭ রানের জুটি ভারতকে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যায়। শেষ ১৪ বল হাতে রেখে শিরোপা জয়ে মেতে উঠে ভারত। সিঁদু ৫৪ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন। বাওয়া ৩৫ রান করেন। ফাইনালের সেরা হন বাওয়া।

দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে ২০২০ বিশ্বকাপে ফাইনালে বাংলাদেশের কাছে বৃষ্টি আইনে ৩ উইকেটে হেরে শিরোপার স্বাদ নিতে পারেনি ভারত। ২০০০, ২০০৮, ২০১২ ও ২০১৮ সালের পর এবার শিরোপা ঘরে তুললো ভারতের যুবারা।

গতবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবার অষ্টম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে।

বাংলাদেশ সিরিজের প্রস্তুতি: সিলেটে অনুশীলন করবে আফগানরা

স্বাগতিক টাইগারদের বিপক্ষে আসন্ন  সিমিত ওভার সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে সিলেটে অনুশীলন ক্যাম্প করার জন্য  আফগানিস্তান দলকে অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি)। সফরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে আফগানিস্তান দল।
চলমান  বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ(বিপিএল) টি-টোয়েন্টি  ক্রিকেট টুর্নামেন্ট  শেষ হবে  ১৮ ফেব্রুয়ারি।  পুর্ব সুচি অনুযায়ী  বিপিএল  শেষ হওয়ার এক দিন  পর অর্থাৎ ১৯ ফেব্রুয়ারি  আফগানিস্তান দলের বাংলাদেশে পৌঁছার কথা ছিল।  তবে  সিরিজ শুরুর কিছুদিন আগে বাংলাদেশে অনুশীলন ক্যাম্প করতে চায় সফরকারীরা।
এখানে অনুশীলনের অনুরোধ জানিয়ে ইেিতামধ্যে বিসিবির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দিয়েছে আফগানস্তিান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। বিসিবিও তাতে  ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
নতুন সুচি অনুযায়ী আফগানিস্তান দল ১২ ফ্রেব্রয়ারি ঢাকা পৌঁছানোর পরই সিলেট চলে যাবে।
কয়েকদিন আগেই  তিন ম্যাচের ওয়ানেড সিরিজে নেদারল্যান্ডসকে হোয়াইওয়াশ করেছে  আফগানিস্তান। তবে আফগান জাতীয় দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই বর্তমানে বিপিএল এবং পিএসএল খেলছে। যাদের মধ্যে রয়েছে রশিদ খান, রহমানউল্লা গুরবাজ, মুজি উর রহান, নজিবুল্লাহ জারদান, কায়েস আহমেদ।
বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরি আজ এখানে বলেন,‘ আফগানিস্তান এখানে  একটি অনুশীলন ক্যাম্পের ব্যবস্থা করার জন্য আমাদের কাছে অনুরোধ করেছে। আমরা তাদের অনুরোধ রেখেছি। আমরা তাদের ক্যাম্পটি  সিলেটে আয়োজনের পরিকল্পনা  করেছি। ভালোভাবে  নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য তারা ৪/৫ দিন আগে এখানে আসবে। সুচি অনুযায়ী তারা  ১২ ফেব্রুয়ারি এখানে আসবে বলে ধারনা করছি।’
আন্তর্জাতিক মান বজায়ে রেখে আফগানিস্তান দলকে বায়ো-বাবল ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে লেও উল্লেখ করেন বিসিবি প্রধান নির্বাহী।
তিনি আরও বলেন,‘এ ছাড়া তাদেরকে বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে।  তাদের  চলাফেরা  সিমিত থাকবে।’
বিসিবি মূলত সিরিজটি সিলেট ও চট্টগ্রামে আয়োজন করতে চেয়েছিল। তবে যেহেতু তাদেরকে সিলেটে ক্যাম্প করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে  তাই  ঢাকা ও চট্টগ্রামে  ম্যাচগুলো  অনুষ্ঠিত হবে।
বিপিএলের ন্যায়  আফগানিস্তান সিরিজও দর্শক শুন্য মাঠে আয়োজন করতে চায় বিসিবি।  তবে সিরিজ শুরুর আগে কোভিড-১৯ পরিস্তিতি দেখে  সরকারের কাছে  নতুন করে  নির্দেশনা  চাইবে।
ডিসিশন  রিভিউ সিস্টেম(ডিআরএস) সম্পর্কেও সু-সংবাদ দেন বিসিবি  সিইও।
তিনি জানান,‘ আফগান সিরিজে ডিআরএস থাকবে। কেবল  আফগান সিরিজই  নয়, বিপিএলে  ঢাকার শেষ পর্বেও  ডিআরএস ব্যবহার করা হবে।’
কোভিডের কারণে বিপিএলে  ডিআরএস টেকনিশিয়ানদের আনতে পারেনি বিসিব।  চট্ট্রগ্রামে এডিআরএস ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সিলেটেও ব্যবহার করা হবে।

আর্জেন্টিনার টানা ২৯ জয়

লিওনেল মেসি না থাকার পরও আর্জেন্টিনার জয়রথ যেন থামছেই না। বুধবার বাংলাদেশ সময় সকালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে কলম্বিয়াকে হারায় স্বাগতিকরা।

খেলার প্রথমার্ধেই এক মাত্র গোলটি করেন আর্জেন্টিনার লাউতারো মার্তিনেস। এ জয়ের ফলে সব মিলিয়ে টানা ২৯ ম্যাচে অপরাজিত রইল আর্জেন্টিনা।

খেলার শুরুর থেকেই আক্রামণ পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করতে থাকে দুই দল। যদিও কলম্বিয়া তেমন সুবিধা করতে পারছিল না। এরপর আস্তে আস্তে চাপ বাড়াতে থাকে আর্জেন্টিনা।

আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে অপরাজিত দলটি খেলার ২৯তম মিনিটে এগিয়ে যায়। বাঁ থেকে মার্কোস আকুনার ক্রসে ডি-বক্সে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের জোরাল শটে গোলটি করেন মার্তিনেস।

পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো। তবে আর্জেন্টিনার ডি মারিয়ার দুর্দান্ত ফ্রি কিক বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক। বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় কলম্বিয়া। মিগুয়েল বোরহার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি কলম্বিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধেও বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণে আধিপত্য ধরে রেখে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ৬৪তম মিনিটে আবারও দূর থেকে চেষ্টা করেন দি মারিয়া। শেষ পর্যন্ত এক গোলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ১৪ ম্যাচে ১১ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ব্রাজিল। ১৫ ম্যাচে ১০ জয় ও ৫ ড্রয়ে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে আর্জেন্টিনা। ১৫ ম্যাচে ৭ জয় ও ৩ ড্রয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে কাতার বিশ্বকাপের যাত্রার পথে এক পা দিয়ে রেখেছে ইকুয়েডর।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন না খেলেও শীর্ষে জকোভিচ

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন না খেলেও বিশ্ব টেনিস র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছেন নোভাক জকোভিচ। রাশিয়ান দানিল মেদভেদেভকে পরাজিত করে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা জিতেছেন রাফায়েল নাদাল। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ২১তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন স্প্যানিশ তারকা। কিন্তু একইসাথে তিনি নোভাক জকোভিচের স্বপ্নও ভঙ্গ করেছেন।

ভ্যাকসিন জটিলতায় মেলবোর্নে খেলতে ব্যর্থ হওয়া জকোভিচও রেকর্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেই অস্ট্রেলিয়া ওপেন খেলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সরকারের করোনা আইনের কারণে ভ্যাকসিন না নেয়ায় তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু তারপরেও বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানটি ঠিকই ধরে রেখেছেন জকোভিচ। টানা ৩৫৮ সপ্তাহ ধরে সার্বিয়ান এই তারকা এক নম্বরে থেকে রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছেন।

মেলবোর্নের ফাইনালে পরাজিত মেদভেদেভ র‍্যাংকিংয়ের দ্বিতীয় স্থানটি ধরে রেখেছেন। তবে জকোভিচের সাথে র‍্যাংকিং পয়েন্টের ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছেন।

গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা জয়ের পর জকোভিচ যে পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিল সেটাই ধরে রেখেছেন। করোনার কারণে গত বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন কিছুটা দেরীতে শুরু হয়ে ৮-২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা জিতে রেকর্ড সৃষ্টি করার পরেও নাদাল র‍্যাংকিংয়ের পঞ্চম স্থানেই রয়েছেন। শীর্ষ ১০’এ অবস্থানের পরিবর্তন হয়ে উপরে ওঠা একমাত্র খেলোয়াড় হলেন ইতালির মাত্তেও বেরাত্তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে নাদালের কাছে পরাজিত বেরাত্তিনি এক ধাপ উপরে উঠে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন।

এটিপি শীর্ষ ১০ র‍্যাংকিং:
১. নোভাক জকোভিচ (সার্বিয়া) ১১০১৫ রেটিং পয়েন্ট
২. দানিল মেদভেদেভ (রাশিয়া) ১০১২৫
৩. আলেক্সান্দার জেভরেভ (জার্মানি) ৭৭৮০
৪. স্টিফানোস টিসিতসিপাস (গ্রিস) ৭১৭০
৫. রাফায়েল নাদাল (স্পেন) ৬৮৭৫
৬. মাত্তেও বেরাত্তিনি (ইতালি) ৫২৭৮
৭. আন্দ্রে রুবলেভ (রাশিয়া) ৪৮৩০
৮. কাসপার রুড (নরওয়ে) ৪০৬৫
৯. ফেলিক্স অগার-আলিয়াসিমে (কানাডা) ৩৯২৩
১০. ইয়ানিক সিনার (ইতালি) ৩৭০৫

/বাসস/এআর

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন : ৪৪ বছর পর চ্যাম্পিয়ন পেল অস্ট্রেলিয়া

দাপুটে শুরুর পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এর শেষটাতেও দাপট দেখালেন অ্যাশলেই বার্টি। শনিবার ফাইনালেও সরাসরি সেটে জিতেছেন নাম্বার ওয়ান টেনিসকন্যা।

রড লেভার অ্যারেনায় আমেরিকান প্রতিপক্ষ ড্যানিয়েল কলিন্সকে প্রথম সেটে হারান ৬-৩ গেমে। ২৭তম বাছাইয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেটে পেছনে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি এবং লড়াই গড়ায় টাইব্রেকে, যা ৭-৬ (৭/২) গেমে জিতে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ অপেক্ষা ঘোচালেন বার্টি।

তার হাত ধরেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ৪৪ বছর পর চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া।

১৯৮০ সালে ওয়েন্ডি টার্নবুলের পর প্রথম নারী অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিলেন বার্টি। এবার ক্রিস ও’নেইলের পর (১৯৭৮) প্রথম অস্ট্রেলিয়ান চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি। এ নিয়ে ভিন্ন তিন কোর্টে মেজর জিতলেন ২৫ বছর বয়সি তারকা।

গত বছর উইম্বলডনে ঘাসের কোর্টে রানীর মুকুট পরেছিলেন বার্টি, ২০১৯ সালে ক্লে কোর্টে ফ্রেঞ্চ ওপেনে এবং সবশেষ শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন হার্ড কোর্টের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম পূর্ণ করতে তার এখন কেবল ইউএস ওপেন জয়ের প্রয়োজন।

মেলবোর্নে বার্টির হাতে ড্যাফনে আখর্স্ট মেমোরিয়াল কাপ তুলে দেন ইভোন গোলাগং কাওলি, যিনি সত্তরের দশকে এ শিরোপা জিতেছেন চারবার।

নিজ পরামর্শকের কাছ থেকে বহুল প্রতীক্ষিত ট্রফি বুঝে পেয়ে বার্টি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এভাবে, ‘আমার একটি স্বপ্ন সত্যিই হয়েছে। একজন অজি হিসেবে আমি গর্বিত। এ ভিড়ের সামনে খেলা আমার কাছে সবচেয়ে মজার। আপনারা অনেক আনন্দ দিয়েছেন, আমাকে শান্ত রেখেছেন এবং আমার সেরা টেনিস খেলতে বাধ্য করেছেন।’

একই সঙ্গে কলিন্সকে শুভকামনা জানিয়ে নাম্বার ওয়ান তারকা বলেছেন, ‘আমি ড্যানিয়েল এবং আপনার দলকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আমি জানি, আপনি ভবিষ্যতে এটার জন্য আরও অনেকবার লড়াই করবেন।’

বিপরীতে আমেরিকান প্রতিপক্ষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন বার্টি। স্বপ্নযাত্রার শেষটায় শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার কষ্ট লুকিয়ে কলিন্স বলেছেন, ‘অসাধারণ দুটো সপ্তাহের জন্য আমি অ্যাশকে অনেক অভিনন্দন জানাই।’ তিনি যোগ করেন, ‘আপনি যে ধরনের খেলোয়াড় এবং আপনার খেলার বৈচিত্র্যের জন্য আমি সত্যিই আপনার প্রশংসা করি। আশা করি, আমি আমার মধ্যে এর কিছু বাস্তবায়ন করতে পারব।’

আফ্রিকান নেশন্স কাপে ক্যামেরুনে পদদলিত হয়ে নিহত ৮

আফ্রিকান নেশন্স কাপের মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা চলাকালীন ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছেন ক্যামেরুনের ফুটবল সমর্থকরা। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্দের ওলেম্বে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে আট সমর্থক নিহত হয়েছেন।

এই ঘটনায় অনেকেই আহত বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্র নিশ্চিত করেছে। স্বাগতিক ক্যামেরুন ও প্রথমবারের মত নেশন্স কাপে খেলতে আসা কোমোরসের মধ্যকার শেষ ১৬’র ম্যাচের আগে এই দূর্ঘটনাটি ঘটে।

এ সম্পর্কে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েল বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ‘এ পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন নারী, চারজন পুরুষ ও দুটি শিশু রয়েছে।

আহতদের দ্রুতই এ্যাম্বুলেন্সে করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে প্রচন্ড যানজটের কারনে তাদের হাসপাতলে নিতে কিছুটা বিলম্ব হয়।

করোনা মহামারীতে ৬০ হাজার দর্শক ধারনক্ষমতা থাকলেও তা কমিয়ে ৬০ শতাং করা হয়েছিল। তবে স্বাগতিক ক্যামেরুনের খেলা হওয়ায় সেটা কিছুটা বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করা হয়।

জাতীয় বার্তা সংস্থা অবশ্য ছয়জনের মৃত্যু ও ছয়জনের আহত হবার খবর নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে এ ব্যপারে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি।

বাইরে যখন এই অবস্থা তখন মাঠে দুই দলের ম্যাচটি স্বাভাবিক ভাবেই শেষ হয়েছে। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করা দেখা হচ্ছে যাতে করে আরো বিস্তারিত ভাবে সব কিছু জানা যায়। ইতোমধ্যেই টুর্ণামেন্ট আয়োজক কমিটির বেশ কিছু কর্মকর্তা হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন।

আহত প্রত্যেকের সুচিকিৎসার জন্য তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের পুরো চিকিৎসা ব্যয় টুর্ণামেন্টের পক্ষ থেকে বহন করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অতিরিক্ত সমর্থকের চাপে এই ধরনের ঘটনা এর আগেও ফুটবলে ঘটেছে। ২০১৫ সালে মিশরের রাজধানী কায়রোতে অতিরিক্ত দর্শকের চাপ ঠেকাতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে প্রায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

২০০১ সালের এপ্রিলে জোহানেসবার্গের এলিস পার্কে সংঘর্ষে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে গুয়াতেমালায় স্বাগতিক দল ও কোস্টা রিকার মধ্যকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ম্যাচ দেখতে এসে ৯০ জনের অকাল মৃত্যু হয়েছিল। বাসস।

/এসএম

Sports at a glance

Exit mobile version